Skip to Content

পান চাষ পদ্ধতি

পান চাষ পদ্ধতি

Be First!

বি এন ই ডিজিটাল: পান লতা জাতীয় গাছ। এর বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে।পানের পাতা খাওয়ার জন্য চাষ করা হয়। পানের রস হজমে সহায়তা করে, রুচি বৃদ্ধি করে এবং মুখের দুর্গন্ধ নাশক হিসাবে কাজ করে।
জাত সাধারণত নানা জাতের পান দেখতে পাওয়া যায়। বাংলাপান, মিঠাপান, ছাঁচিপান, লালিপান, কর্পূরীপান, গাছপান ইত্যাদি।
জলবায়ু: ছায়াচ্ছন্ন গ্রীষ্মপ্রধান স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে পান ভাল জন্মে। গ্রীষ্মকালে পানের আকার ছোট হয় তবে স্বাদ ভাল হয়। বর্ষাকালেও পানের ফলন ভাল হয়। তবে অধিক বৃষ্টিপাত ও গাছের গোড়ায় জল দাড়ানো ক্ষতিকর। চারিদিকে ছায়াঘেরা এ মনোরম পরিবেশকে চলতি ভাষায় ‘বর’ বা ‘বারোজ’ বলা হয়।
মাটি: জৈব সারে সমৃদ্ধ ও জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা আছে এমন বেলে দোআঁশ, দোআঁশ ও এটেল মাটি পান চাষের উপযোগী। লাল দোআঁশ মাটিতেও প্রয়োজন মত জৈব সার ও পলি মাটি মিশিয়ে চাষ করা যেতে পারে।গর্তগুলো ২৫/৩০ সেঃমিঃ গভীর ও ৩০ সেঃমিঃ চওড়া করা হয়। প্রতি গর্তে ৪০০-৮০০ গ্রাম পর্যন্ত কাঠের ছাই গোবর সার ও কম্পোস্ট সার প্রয়োগ করা হয়।
চারা প্রস্তুকরন : পান গাছের কান্ডকে ছোট ছোট টুকরো এর চারা তৈরি করতে হয়। প্রতিটি চারা লম্বায় ২৫-৩০ সেঃমিঃ এবং তাতে ৩-৫টি গাঁইট থাকা প্রয়োজন। সাধারণত দুটি গাইট মাটির নিচে এবং একটি বা অধিক গাঁইট মাটির উপরে রাখা হয়। চারা প্রস্তুতের জন্য কমপক্ষে দুই বছর বয়সের পুরাতন এবং সুস্থ ও নীরোগ গাছ নির্বাচন করা হয়।
রোপণ : বর্ষা শুরুর ঠিক পরেই পানের চারা রোপণ করার উপযুক্ত সময়। চারা রোপনের পূর্বে দরকার হলে জমিতে সেচ দেয়া প্রয়োজন ।
দূরত্ব:পান চারা রোপণের সময় এক চারা হতে অপর চারার দূরত্ব ২৫/৩০ সেঃমিঃ রাখতে হয়। ছাড়া সারি হতে সারির দূরত্ব ৩৫/৪৫ সেঃমিঃ রাখা দরকার। ২/৩ সপ্তাহের মধ্যেই পানের চারা সতেজ হয়ে ওঠে এবং ১ মাসের মধ্যে প্রথম পাতা দেখা যায়। পানের চারা একটু বড় হলেই তাকে পাটকাঠি বা বাঁশের কঞ্চি পুঁতে তার সাথে পান গাছ বেধে দিতে হবে।
সার: জমিতে প্রতি বছর হেক্টর প্রতি ৩০-৫০ কুইন্টাল গোবর সার প্রয়োগ করতে হবে। চারা ৫/৬ পাতাওয়ালা হলেই পচা খৈল জাতীয় সার প্রয়োগ করলে গাছ সতেজ হয়ে ওঠে। হেক্টর প্রতি ১০০ কেজি ইউরিয়া ৩ বারে জমিতে প্রয়োগ করতে হয়। উক্ত সারের সাথে ৫০ কেজি টি.এস.পি ও ৫০ কেজি পটাশ সার মিশ্রিত করে প্রয়োগ করতে হয়।
পরিচর্যা: পানের ক্ষেতে যাতে আগাছা না জন্মে সেদিকে বিশেষভাবে নজর রাখতে হবে।সাধারণত পান গাছকে ১-১.৫ মিটার এর বেশি লম্বা হতে দেয়া হয় না। কারণ অতিরিক্ত লম্বা গাছ পান সংগ্রহ করা একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। সে সঙ্গে গাছের জীবনী শক্তিও কমে যায়।নিদিষ্ট পরিমান উঁচু হওয়ার পর গাছকে দরকার হয় না। তখন গাছের ডগাগুলো লতিয়ে নিচের দিকে অবশেষে জমিতে নেমে আসে। বর্ষাকালে সেচের প্রয়োজন হয় না। তবে শীত মৌসুমে ৬/৭ দিন পর পর একবার সেচ দিতে হয়।
পানের সাথে অতিরিক্ত ফসল হিসেবে পান বরোজেরই পাশে লাউ, কুমড়া, করল্লা, পটল, ডাঁটা ইত্যাদির চাষও বেশ লাভজনক। কৃষকের উপরি রোজগারেরও সুযোগ হয়।
পান তোলা: ঠিকমত যত্ন ও পরিচর্যা করলে চারা লাগানোর ছয় মাস পর পান তোলা যেতে পারে। প্রতিটি গাছ হতে বছরে তিন/চার এমনকি পাঁচবারও পান তোলা যায়।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail
Previous
Next

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*