বেসরকারি হাসপাতালে হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপনে বেনজির গড়ল, সাক্ষী থাকলো কলকাতা

নি প্ৰ কলকাতা: নজিরের সাক্ষী হয়ে থাকলো কলকাতা৷ পূর্ব ভারতে এই প্রথম হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপন।গোটা দেশের ক্ষেত্রেই যা বেনজির। তারই জেরে, প্রথম হল হৃদযন্ত্রের প্রতিস্থাপন৷
মরণোত্তর অঙ্গদান ও অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের তুলনায় অনেক এগিয়ে রয়েছে দক্ষিণ ভারত৷ পরিসংখ্যান এমনই বলছে৷এ ক্ষেত্রে কলকাতার বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালের তুলনায় পরিকাঠামোগত দিক থেকে এখনও অনেক পিছিয়ে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সেরা হিসাবে পরিচিত এসএসকেএম হাসপাতাল তথা ইন্সটিটিউট অফ পোস্ট গ্র্যাজুয়েট মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (আইপিজিএমইআর) কলকাতা৷

সূত্রের খবর, হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপনের জন্য এখনও প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়নি রাজ্যের পয়লা নম্বর সরকারি এই হাসপাতালে৷ লিভার প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে এখনও সেভাবে সফলও হতে পারেনি এসএসকেএম হাসপাতাল৷ এই ধরনের পরিস্থিতির মধ্যেই সোমবার পূর্ব ভারতে প্রথম হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপনের সুযোগ করে নিল ইএম বাইপাসের ধারে অবস্থিত মুকুন্দপুরের বেসরকারি এক হাসপাতাল৷

তবে, পূর্ব ভারতে এই প্রথম হলেও, হৃদযন্ত্রের দাতা এবং গ্রহীতা, দু’জনেই ভিন রাজ্যের৷ পথদুর্ঘটনায় মারাত্মক জখম ২১ বছরের এক তরুণের মস্তিষ্কের মৃত্যু বেঙ্গালুরুর এক হাসপাতালে গত ১৯ মে ঘোষণা করা হয়৷ মরণোত্তর অঙ্গদানে সম্মত হন মৃত এই তরুণের পরিজনরা৷ স্বাভাবিক কারণেই হৃদযন্ত্র গ্রহীতার খোঁজ চলতে থাকে৷ শেষ পর্যন্ত ঝাড়খণ্ডের ২৯ বছরের এক যুবকের দেহে ওই হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷ হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপনের জন্য ২০১৭-র জানুয়ারি থেকে এই যুবকের নাম তালিকায় ছিল৷

সোমবার মুকুন্দপুরের ওই বেসরকারি হাসপাতালে ওই হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপিত হয়েছে৷ অস্ত্রোপচার সফল বলে জানানো হয়েছে৷ পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা ঝাড়খণ্ডের ওই যুবকের শারীরিক অবস্থা বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে৷ সোমবার সকালে বেঙ্গালুরু থেকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয় ওই হৃদযন্ত্র৷ কলকাতার বেসরকারি ওই হাপাতালের চিকিৎসক তাপস রায়চৌধুরীর নেতৃত্বে হয় হার্ট প্রতিস্থাপন।তারপর চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, ৯৬ ঘণ্টা না কাটলে এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনও সিদ্ধান্তে আসা যাবে না। অস্ত্রোপচার সফল বলে জানানো হয়েছে।শারীরিক অবস্থার বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
ছবি. প্রতীকী 

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail