মানবিকতার নজির গড়লো বারাসাত হাসপাতাল

অর্পিতা ঘোষ,বারাসাত : দক্ষিণ 24 পরগণার কুলতলি থানার মাধবপুর গ্রামের দশরথ প্রামানিক ও জয়া প্রমানিকের একমাত্র মেয়ে শচীরানী। বছর তিরিশের শচীরানী ওরফে প্রমীলার বছর চারেক আগে বিবাহ হয়। সাংসারিক জীবন তার সুখের হয়নি। বিবাহের পর স্বামীর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে একদিন বাপের বাড়ি চলে আসেন শচীরানী। এরপর বাপের বাড়িতে আসার পর একদিন বাবার সাথে কথা কাটাকাটি হওয়ায় অত্যন্ত দুঃখ, কষ্টে ও মানসিক যন্ত্রণায় জর্জরিত হয়ে মাস তিনেক আগে শচীরানী বাড়ি ছাড়েন। অত্যন্ত মানসিক চাপ নিয়ে চারিদিকে ঘোরাঘুরি করে অবশেষে একদিন ট্রেনে চড়ে বারাসাত স্টেশনে এসে পৌঁছান তরুণীটি। বারাসাত স্টেশন থেকে অসুস্থ তরুণীটিকে রেল পুলিশ উদ্ধার করে বারাসাত হাসপাতালে ভর্তি করেন। এমন করে নানা জায়গা ঘোরাঘুরির পর প্রমীলা দেবীর ঠাঁই হয় বারাসাত হাসপাতাল। মানসিক চিকিৎসার সাথে সাথে শুরু হয় তার কাউন্সিলিং। হাসপাতালে মানসিক বিভাগের বিভাগের বিভিন্ন ডাক্তার,হাসপাতাল সুপার এবং জেনারেল ডাক্তার তাকে সুস্থ করতে উঠে পড়ে লাগেন। কয়েক দিন আগে হাসপাতাল সুপারের কাছে প্রমীলা বাড়ির ঠিকানা বলেন এবং তাকে বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান। এরপর তার ঠিকানা নিয়ে বারাসাত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কুলতলী থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রমীলার বাড়ির লোককে খবর দেন। কুলতলী থানা থেকে খবর পেয়ে প্রমীলার বাড়ির লোক তাকে ফিরিয়ে নিতে আসে। বর্তমানে সেই সম্পূর্ণ সুস্থ এবং আর পাঁচটা স্বাভাবিক মানুষের মতো জীবন যাপন করবেন এমনটাই জানান হাসপাতাল সুপার ডা: সুব্রত মন্ডল। বেশ কিছুদিন ধরেই প্রমিলা বাড়িতে যাওয়ার জন্য বারবার মানসিক বিভাগের ডাক্তার এবং সুপারকে অনুরোধ করছেন কারন সামনে ভাইফোঁটা সে ভাইদের ফোঁটা দিতে চায় এইজন্য তার বাড়ি যাওয়ার এত তাড়া। ২ নভেম্বর দুপুরে প্রমীলাকে বারাসাত হাসপাতাল থেকে নিয়ে যান শচীরনীর বাবা-মা ও দাদা এবং গ্রামের লোকেরা। হারিয়ে যাওয়া মেয়েকে এতদিন পর সুস্থ অবস্থায় খুঁজে পেয়ে আনন্দে আপ্লুত শচীরাণীর পিতা,মাতা ও বাড়ির লোকরা। অন্যদিকে শচীরানীও বাড়ির লোককে,দাদাদেরকে পেয়ে ও দীর্ঘদিন পর নিজের বাড়ি যেতে পারবে বলে খুব খুশি। এদিন শচীরানী ও তার বাড়ির লোকজনেরা বারাসাত হাসপাতাল এবং হাসপাতাল সুপারকে ধন্যবাদ জানান। বারাসাত হাসপাতালের সমস্ত ডাক্তার,নার্স,হাসপাতাল সুপারেন্টেন্ড ডা: সুব্রত মন্ডল প্রমীলাকে সুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরিয়ে দিয়ে ও তার ইচ্ছে পূরণ করে মানবিকতার নজির যে গড়লেন তা অবশ্যই প্রশংসনীয়।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail