মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি বদল নিয়ে কেন্দ্রকে নোটিস সুপ্রিম কোর্টের

ডিজিটাল ডেস্ক:  অপরাধ যতই গুরুতর হোক না কেন, রাষ্ট্র কি অপরাধীর প্রাণ কেড়ে নিতে পারে?  এ নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। ভারতে গলায় ফাঁস লাগিয়ে যেভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, সেটাও কি আদৌও গ্রহণযোগ্য?  প্রশ্ন তুলেছেন ঋষি মালহোত্রা নামের এক আইনজীবী। এদেশে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পদ্ধতি বদলের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা করেছেন তিনি। সেই মামলায় কেন্দ্রকে নোটিস পাঠাল শীর্ষ আদালত।

সংবিধানে যেমন কোনও অপরাধীকে সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার সংস্থান আছে, তেমনই সেই মৃত্যুদণ্ড কীভাবে কার্যকর করতে হবে, তাও বলা আছে। সংবিধানের ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৩৫৪ (৫) ধারায় বলা হয়েছে, মৃত্যদণ্ডের সাজাপ্রাপ্ত অপরাধীকে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। সোজা বাংলায় ফাঁসি দিতে হবে। আর তা নিয়ে আপত্তি তুলেছেন আইনজীবী ঋষি মালহোত্রা। তাঁর বক্তব্য, জীবনধারণের অধিকারের মধ্যে সম্মানজনক মৃত্যুর অধিকারও পড়ে। তাই কাউকে ফাঁসি দেওয়াটা অত্যন্ত বর্বরোচিত ও নিষ্ঠুর। ফাঁসি কখনই জীবনকে শেষ করে দেওয়ার সম্মানজনক পদ্ধতি হতে পারে না।

শুক্রবার মামলাটির শুনানি হয় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে। আদালত জানিয়েছে, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের মনে হয়েছে, আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে এখন অনেক ধরনের পদ্ধতি আবিষ্কার হয়েছে। তাই প্রশাসন অন্য কোনও উপায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা ভেবে দেখতে পারে। যাতে যন্ত্রণায় নয়, শান্তিতে অপরাধী প্রাণত্যাগ করতে পারে। তবে একথাও ঠিক, মৃত্যুকে কখনও পুরোপুরি যন্ত্রণাহীন করা সম্ভব নয়।’

প্রসঙ্গত, ভারতের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পদ্ধতি বদলের দাবি অবশ্য নতুন নয়। ১৯৮৪ সালে মৃত্যুদণ্ডের সাজাপ্রাপ্ত বন্দিকে ফাঁসি দেওয়ার আইনি বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়েছিল। বস্তুত, সংবিধানের এ সংক্রান্ত ধারাটিও বাতিল করার আরজি জানিয়েছিলেন মামলাকারীরা। কিন্তু, তখন সেই আরজি খারিজ করে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পদ্ধতি হিসেবে ফাঁসিকে মান্যতা দিয়েছিল আদালত। তাহলে এখন কেন কেন্দ্রকে নোটিস পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট? তারও ব্যাখ্যা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। বেঞ্চ জানিয়েছে, একসময় আইনের যে ধারাকে বৈধ বলে মনে করা হয়, সময়ের সঙ্গে সেই ধারাই আবার অবৈধ হয়ে যেতে পারে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *