সুধাবর্ষণ 

আমাদের ধর্মীয় পীঠস্থান পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক বৃত্তান্ত  — প্রসাদ গোঁসাই 

হিন্দু ধর্ম শাস্ত্র অনুযায়ী আমাদের এই দেশ জুড়ে যে সমস্ত তীর্থ বা পিঠস্থান আছে তার মাহাত্য আমরা কম বেশি জানি । আমাদের ধর্মীয় সংস্কৃতি এই পিঠস্থান গুলিকেই কেন্দ্র করে সমৃদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করে আসছে আবাহমান কাল থেকেই। পাশ্চাত্য দেশগুলিও আমাদের এই বিপুল রত্ন সম্ভারের খোঁজে বারবার হানা দিয়েছে এবং এখনও দিয়ে যাচ্ছে । আমরা আমাদের নিজস্ব এই ধর্মীয় সংস্কৃতির স্বরূপ জানার সঠিক প্রয়াস কোনদিনও করিনি এখনও করার প্রয়োজনীয়তা বা তাগিদ অনুভব করিনা। কিছু সুবিধা ভোগী মানুষের দ্বারা বা স্বঘোষিত বিকার গ্রস্ত ধর্মীয় গুরুর বর্ণিত ঘটনায় নিজেদেরকে নিমজ্জিত রেখে নিজেদের সত্যিকারের ভাবনার মূলেই কুঠারাঘাত করে যাচ্ছি । তা ঠিক নয়। 

আমি আমার সীমাবদ্ধ জ্ঞানের মাধ্যমে আমাদের সত্যিকারের ধর্মীয় সংস্কৃতি কে তুলে ধরার প্রচেষ্টা করছি কিছু পৌরাণিক ইতিহাসকে সামনে এনে । আমরা ধারাবাহিক ভাগে আলোচনা শুরু করবো আমাদের শক্তি পীঠ বা ধর্মীয় পীঠস্থান গুলোকে নিয়ে। এই পীঠস্থান গুলোর ধর্মীয় কাহিনী ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ এর মাধ্যমে যাকিনা ক্ষয়প্রাপ্ত সমাজের বাসিন্দাদের কিঞ্চিৎ সচেতন করে তুলবে। 

পীঠের সংখ্যা ৫১। শিবচরিত গ্রন্থে ৫১টি শক্তিপীঠের পাশাপাশি ২৬টি উপপীঠের কথাও বলা হয়েছে।কুব্জিকাতন্ত্র গ্রন্থে এই সংখ্যা ৪২। আবারজ্ঞানার্ণবতন্ত্র গ্রন্থে পীঠের সংখ্যা ৫০।ভারতীয় উপমহাদেশের নানা স্থানে এই শক্তিপীঠগুলি ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।কলকাতারকালীঘাট, বীরভূমের বক্রেশ্বর, নলহাটি; বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ভবানীপুরইত্যাদি বাংলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তিপীঠ।

কিংবদন্তি অনুসারে, সত্য যুগের কোনও এক সময়ে মহাদেবের উপর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য দক্ষ রাজা বৃহস্পতি নামে এক যজ্ঞের আয়োজন করেছিলেন। কন্যা সতী দেবী তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ‘যোগী’ মহাদেবকে বিবাহ করায় দক্ষ ক্ষুব্ধ ছিলেন। দক্ষ মহাদেব ও সতী দেবী ছাড়া প্রায় সকল দেব-দেবীকে নিমন্ত্রণ করেছিলেন। মহাদেবের অনিচ্ছা সত্ত্বেও সতী দেবী মহাদেবের অনুসারীদের সাথে নিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন।

কিন্তু সতী দেবী আমন্ত্রিত অতিথি না হওয়ায় তাঁকে যথাযোগ্য সম্মান দেওয়া হয়নি। অধিকন্তু দক্ষ মহাদেবকে অপমান করেন। সতী দেবী তাঁর স্বামীর প্রতি পিতার এ অপমান সহ্য করতে না পেরে যোগবলে আত্মাহুতি দেন।

শোকাহত মহাদেব রাগান্বিত হয়ে দক্ষর যজ্ঞ ভণ্ডুল করেন এবং সতী দেবীর মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রলয় নৃত্য শুরু করেন। অন্যান্য দেবতা অনুরোধ করে এই নৃত্য থামান এবং বিষ্ণুদেব তাঁর সুদর্শন চক্র দ্বারা সতী দেবীর মৃতদেহ ছেদন করেন। এতে সতী মাতার দেহখণ্ডসমূহ ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন জায়গায় পড়ে এবং পবিত্র পীঠস্থান (শক্তিপীঠ) হিসেবে পরিচিতি পায়।

সকল শক্তিপীঠসমূহে শক্তিদেবী ভৈরবের সাথে অবস্থান করেন। শক্তিপীঠের সংখ্যা ৫১ টি।

(পরবর্তীতে শক্তি পীঠ কালীঘাট)

ছবি প্রতীকী 

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *