উইকএন্ডে গোপালপুর 

অর্পিতা ঘোষ, বারাসাত নিউজ এক্সপ্রেস : বাঙালি পর্যটকদের পছন্দের উইকএন্ড ডেস্টিনেশনের মধ্যে উঠে আসে বারবার পড়শি রাজ্যের মুগ্ধ করা জায়গাগুলো। এমনই একটি জায়গা ওড়িশার গোপালপুর যা হতেই পারে আপনার বেড়ানোর ঠিকানা। আপনি যদি সমুদ্রবিলাসী হন,তাহলে গোপালপুরের শান্ত সমুদ্র ভাল লাগবে নিশ্চয়ই। আর নির্জনতার কাঙাল তো আমরা প্রায় সকলেই। সেটাও ভরপুর এই সৈকতে।

শুধু গোপালপুর ঘুরে আসার বদলে হাতে সময় নিয়ে দেখে আসতে পারেন তপ্তপানি, চিল্কা লেক ইত্যাদি। ওড়িশার বিভিন্ন সি-বিচগুলোর মধ্যে গোপালপুরের সমুদ্রসৈকতে সকলে আসেন নিরিবিলির খোঁজে। সমুদ্রের ধারের বালিয়াড়ির অন্যতম আকর্ষন বিশাল লাইটহাউস। যার উপর থেকে সমুদ্রের ৩৬০ ডিগ্রি ভিউ পাওয়া যায়। ভাল করে খেয়াল করলে চিল্কার একটা অংশও দেখা যায় এই লাইটহাউসের উপর থেকে।

বিকেলের দিকে ঘণ্টাদুয়েকের জন্য পর্যটকদের জন্য খোলা রাখা হয় লাইটহাউস। ওড়িশার পর্যটন উন্নয়ন দফতরের রক্ষণাবেক্ষণে বহাল তবিয়তে রয়েছে প্রাচীন এই লাইটহাউস। হাতে যদি ক্যামেরা থাকে তা হলে তো কথাই নেই যখনই মনে হবে তুলে নেবেন সেলফি এর পাশাপাশি আপনার মন কাড়া দুর্দান্ত প্রাকৃতিক দৃশ্যগুলো ক্যামেরাবন্দি করবেন। গোপালপুর বিচের আরেকটা বড় সুবিধা হল, এখানে সমুদ্রতটের একেবারে গা ঘেঁষে থাকার বন্দোবস্ত রয়েছে।

মনে হবে হোটেল থেকে দু’কদম এগোলেই নোনাজল বালি ভেদ করে এসে পায়ে ঠেকবে। গোপালপুর পোর্ট, ডলফিন পয়েন্ট, হিলটপের মতো জায়গাগুলো একটা অটো বা গাড়ি ভাড়া করে ঘুরে দেখে নিতে পারেন। গোপালকৃষ্ণ মন্দির, কাজুবাদাম তৈরির কারখানাও আছে সেখানেও যেতে পারেন। যদি গাড়ি নিয়ে যান, নিজেরা ঘুরে আসুন রুশিকুল্যা নদীর মোহনা কিংবা চন্দ্রগিরি পাহাড়।

আশপাশের জায়গাগুলো আগে থেকে বাছাই করে, গাড়ির সঙ্গে কথা বলে প্যাকেজ ট্যুরের বন্দোবস্ত করে রাখতে পারেন। গোপালপুরের ব্যাকওয়াটার সফরও মন্দ নয়। খাঁড়ির মধ্যে দিয়ে নৌ-ভ্রমণ। বেশি ঘোরাঘুরি না করে শুধুই যাঁরা সমুদ্রের মুখোমুখি বসে নিরিবিলিতে সময় কাটাতে চান, তারা বেছে নিন বিচের উপরের সি-ফেসিং কোনও রুম। তারপর শুধু বঙ্গোপসাগর আর আপনি। আর মাঝে মাঝে মৎস্যজীবীদের আনাগোনা। পূর্ণিমার সময়ে গেলে রাতের সমুদ্রের অপূর্ব রূপ আপনার চোখে ধরা দেবে। সমুদ্রের বুকে সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত কিছুতেই মিস্‌ করবেন না একদম।

সপরিবার যান কিংবা বন্ধুদের নিয়ে,গোপালপুর সফর আপনার মন জুড়িয়ে দেবে সেটা নিশ্চিত ভাবে বলতে পারি। আসুন জেনে নিই কীভাবে যাবেন গোপালপুর – হাওড়া থেকে বেরহামপুর যাওয়ার কোনও ট্রেন ধরুন। চেন্নাই মেল-সহ অনেক ট্রেনই পাবেন। গাড়িতে গেলে হাতে একটা গোটা বেলা সময় নিয়ে বেরোন। প্রায় ৬০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে। বিমানে ভুবনেশ্বর থেকে বেরহামপুর হয়েও যাওয়া যায় গোপালপুরে।

থাকা নিয়ে ভাববেন না ওড়িশা পর্যটন দফতরের পান্থনিবাসে থাকতে পারেন। এছাড়া বেসরকারি অনেক হোটেলও রয়েছে। খরচও খুব একটা বেশি না মাথাপিছু প্রায় ৫০০০টাকা।বেশিরভাগ সময়েই পর্যটকদের ভিড়ের চাপ তেমন থাকে না এখানে, তাই গিয়ে বুকিং পেতে অসুবিধে হবে না। তাহলে আর দেরি কেন আজই প্ল্যান করে বেরিয়ে পড়ুন গোপালপুর।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail